
চট্টগ্রামের নগরীতে শনিবার (২৯ মার্চ) গভীর রাতে সংঘটিত এক ভয়াবহ বন্দুক হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন এবং আরও দুজন আহত হয়েছেন। চকবাজার থানার চন্দনপুরা এলাকায় এই হামলার ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয়দের ধারণা, শীর্ষ সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদ ওরফে ‘বুড়ির নাতি’র প্রতিশোধমূলক হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ও বখতেয়ার উদ্দিন মানিক।
নগর পুলিশের দক্ষিণ জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জানান, নিহতদের স্বজনরা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। হত্যার মূল কারণ এখনো স্পষ্ট নয়, তবে এটি রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার এবং প্রতিশোধপরায়ণতার কারণে হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার মধ্যরাতে কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতুর এলাকায় বালু মহালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। রাত আড়াইটার দিকে একটি প্রাইভেটকার বহদ্দারহাটের দিকে রওনা হলে কয়েকটি মোটরসাইকেল তাদের পিছু নেয় এবং এলোপাতাড়ি গুলি চালায়।
ধাওয়া করতে করতে হামলাকারীরা কালামিয়া বাজার হয়ে বাকলিয়া এক্সেস রোড-চন্দনপুরা মোড়ে এসে ব্রাশফায়ার চালায়। এতে আবদুল্লাহ ও মানিক নিহত হন এবং রবিন ও হৃদয় আহত হন। রবিন বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব নাকি ব্যক্তিগত শত্রুতা?
আহত রবিনের ধারণা, হামলার মূল লক্ষ্য ছিলেন সারোয়ার হোসেন বাবলা, যার সঙ্গে ছোট সাজ্জাদের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ছিল। সম্প্রতি সাজ্জাদ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর এই দ্বন্দ্ব আরও বেড়ে যায়। সারোয়ারের সঙ্গে নিহত আবদুল্লাহর রাজনৈতিক যোগাযোগ থাকায় তাকেও টার্গেট করা হয়।
আবদুল্লাহর পরিবার দাবি করছে, মাস দুয়েক আগেও সাজ্জাদের বাহিনী তাকে গুলি করেছিল। নিহত আবদুল্লাহর স্ত্রী পিয়ামণির অভিযোগ, ‘সাজ্জাদ গ্রুপের লোকজন আমার স্বামীকে খুন করেছে। এর আগেও তাকে গুলি করা হয়েছিল।’
পুলিশ জানিয়েছে, ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর জানা যাবে কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হামলাকারীরা পিস্তল ও শর্টগান ব্যবহার করেছে।
এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, তবে পুলিশ সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
নিহতদের পরিবার মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনার পেছনের কারণ অনুসন্ধান করছে। নগরজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য অভিযুক্তদের শনাক্তে অভিযান চালানো হচ্ছে।
এই হত্যাকাণ্ড চট্টগ্রামের অপরাধ পরিস্থিতি ও সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতার নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।